ঢাকা, ১১ জানুয়ারি : মুসলিম আইনে পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে বৈধ হলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না—এমন বিশ্বাস সমাজে ব্যাপকভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সেই ধারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।
মুসলিম পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায়ে বলেছেন, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়। বরং আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ভিত্তিতেই দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। আদালত উল্লেখ করেন, মুসলিম পারিবারিক আইনে কোথাও সরাসরি স্ত্রীর সম্মতিকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়নি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত ২৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়ে বলা হয়, দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আইন অনুযায়ী আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর ন্যস্ত। ফলে কাউন্সিলের অনুমতি থাকলে প্রথম স্ত্রীর সম্মতি না থাকলেও দ্বিতীয় বিয়ে আইনগতভাবে অবৈধ হবে না।
আইনি প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে আদালত বলেন, ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্ত্রী বা স্বামীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ প্রণীত হলে নারীদের ক্ষেত্রে ওই কঠোর শাস্তি বহাল থাকলেও পুরুষদের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। সে ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে এক বছর কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন রিটকারীরা। তাদের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও নীতিমালা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য সমান অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছিলেন বলে জানান তারা।
সমাজবিজ্ঞানীদের একটি অংশ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আর্থিক সক্ষমতা বা সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেক পুরুষ এই সুযোগ অপব্যবহার করতে পারেন। এতে পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক বৈষম্য এবং নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি বলে তারা মত দেন।
এদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগে বিষয়টি গড়ালে তা আইন ও সমাজে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Suprobhat Michigan

সুপ্রভাত মিশিগান ডেস্ক :